প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 2, 2026 ইং
চিলমারীতে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১; আহত ১২

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হুরমুজ আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের গোয়ালের চর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত হুরমুজ আলী ওই এলাকার শায়নু উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়ালের চরে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে সেলিম মিয়া এবং শহীদ ও তোতা মিয়ার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমাও রয়েছে।
সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সেলিম মিয়ার পক্ষের অনুকূলে রায় আসে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পর বৃহস্পতিবার শহীদ পক্ষের লোকজন ওই জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে বিষয়টি জানতে পেরে সেলিম পক্ষের লোকজন সেখানে যায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র ও ট্রাক্টরজাতীয় যানবাহন দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে হুরমুজ আলী গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম আহমেদ (৪৫), রিয়াজুল হক (৪৬), মহসিন হক রাজা (৭০), মনির হোসেন (৩৫), শহীদ মিয়া (৫৫), হাসিনা বেগম (৫৫) ও আমিনুল ইসলাম (৩০)সহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে রৌমারীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
সেলিম মিয়া দাবি করেন, গোয়ালের চরে তাদের প্রায় সাড়ে সাত একর জমি রয়েছে। ওই জমিতে শহীদ পক্ষ ঘরবাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছিল। জমি নিয়ে এর আগে ঢুষমারা থানায় উভয় পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আদালতের মামলাতেও তাদের পক্ষে রায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার শহীদ পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষের মধ্যে তার ভাই হুরমুজ আলী নিহত হন।
অন্যদিকে শহীদ পক্ষের রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখলে রয়েছেন। হঠাৎ করে সেলিম মিয়া ও তার লোকজন জমিটির মালিকানা দাবি করে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমআর সাঈদ বলেন, বেলা ১১টার দিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে হুরমুজ আলীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশ বাংলা টিভি নিউজ